You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > বাংলাদেশ > বাংলাদেশ পুঁজিবাদ অনুসারী সাম্রাজ্যবাদ পীড়িত শোষণমূলক নয়া উপনিবেশিক রাষ্ট্র

বাংলাদেশ পুঁজিবাদ অনুসারী সাম্রাজ্যবাদ পীড়িত শোষণমূলক নয়া উপনিবেশিক রাষ্ট্র

ভূ-গোলকে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বা গণলোকতন্ত্রী বাংলাদেশ (ইংরেজি: People’s Republic of Bangladesh) পুঁজিবাদ অনুসারী এবং সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা নিপীড়িত দক্ষিণ এশিয়ার একটি নয়া উপনিবেশিক রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে পূর্ব বাংলার জনগণ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের লক্ষ্যে গণযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটিকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এর অভ্যুদয় ঘটে।

বাংলাদেশ গঙ্গার নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত। এদেশের পূর্বে মায়ানমার এবং উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও পশ্চিমে ভারত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের আয়তন সীমিত (১ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গকিলােমিটার) এবং জনসংখ্যা ২২.৭ কোটি। এদের অধিকাংশই বাঙ্গালী এবং এরা সুপ্রাচীন সভ্যতার অধিকারী। দেশের অধিকাংশ মানুষই গ্রামবাসী। বাংলাদেশের বড় বড় শহরগুলির মধ্যে রাজধানী ঢাকা (জনসংখ্যা ২ কোটি) ও সাগরতীরের বন্দর-নগর চট্টগ্রাম (জনসংখ্যা ১ কোটি) উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৯৮১ সালে ছিলো ৮.৬ কোটি এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে গ্রামীণ জনসংখ্যার গড় ঘনত্ব ছিলো ৫০০ জন[১]।

বাংলাদেশের অর্থনীতি খুব মজবুত নয়। দেশের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশই কৃষিজীবী। বাংলাদেশে ধান ও পাট জন্মে এবং তার মৎস্যশিল্প যথেষ্ট উন্নত। এদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম পাট উৎপাদক। তদুপরি এখানে চা, তামাক, শাকসবজি এবং ফল-ফলাদিও জন্মে। পাটকল এবং কাপড়ের ও চিনির কারখানা থাকা সত্ত্বেও মােটের উপর দেশের দুর্বল অর্থনীতিতে কুটিরশিল্পের প্রাধান্য অব্যাহত।[২]

          মূল নিবন্ধ: বাংলাদেশের গণযুদ্ধ প্রসঙ্গে

স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে একটি গণযুদ্ধে দেশটি স্বাধীন হয় যা বাংলাদেশের গণযুদ্ধ (ইংরেজি: Peoples War of Bangladesh) নামে পরিচিত। ১৬ ডিসেম্বর তারিখে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর নিকট পূর্ব পাকিস্তানে প্রায় এক লক্ষ পাকিস্তানী সৈন্যের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটে। ভুটান, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্যতীত অপরাপর অনেক রাষ্ট্র ডিসেম্বর ১৯৭১ এবং জানুয়ারি ১৯৭২ সময়ের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশেকে স্বীকৃতি প্রদান করে।[৩]

স্বাধীন বিকাশের কয়েকটি বছরের মধ্যে যুদ্ধের ফলে বিধস্ত অর্থনীতি পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্র উল্লেখযােগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। ১৯৭১ সালের পর বেসামরিক-সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে দেশে ব্যক্তিগত পুঁজিবাদী সম্পর্ক ও বিদেশী পুঁজি অনুপ্রবেশ জোরদার হয়েছে। তবে দেশের জাতীয় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং শান্তি, গণতন্ত্র ও সামাজিক প্রগতির পথে তার উন্নতির উপরই বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন নির্ভরশীল।[২]

তথ্যসূত্র:

১. ভ. প. মাক্সাকোভস্কি, অনুবাদ: সুবীর মজুমদার: উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভূগোল, প্রগতি প্রকাশন মস্কো, বাংলা অনুবাদ ১৯৮৬, পৃষ্ঠা ৯৯।

২. কনস্তানতিন স্পিদচেঙ্কো, অনুবাদ: দ্বিজেন শর্মা: বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভূগোল, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, বাংলা অনুবাদ ১৯৮২, পৃ: ১২৮-১২৯।

৩. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ২১৫-২১৭।

আরো পড়ুন:  বাংলায় মোগল-শাসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top