You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > খবর > সময়ের স্ফুলিঙ্গকে ধারণ করবে ‘অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা’ — খুলনায় কবিদের উচ্চারণ

সময়ের স্ফুলিঙ্গকে ধারণ করবে ‘অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা’ — খুলনায় কবিদের উচ্চারণ

সময়ের স্ফুলিঙ্গকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে ‘অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা’। তৃতীয়বারের মতো উক্ত আন্দোলনের কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হলো গত ৩০ মার্চ ২০১৯ বাংলাদেশের খুলনায়। শনিবার বিকেল ৪টায় মহানগরীর শতাব্দীপ্রাচীন উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিতে এ কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক কবি অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন।

‘অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা’ নামে সম্প্রতি গড়ে ওঠা এই কবিতা আন্দোলনে পাঠ করা হলো এই অবরুদ্ধ সময়ের পঙক্তিমালা।  বর্তমান সময়কে ধারণ করে স্রোতের বিপরীতে যারা কবিতাচর্চা করছেন, তাদের মধ্যে অনেক তরুণ কবি এই আসরে কবিতা পাঠ করেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কবি ও প্রাবন্ধিক অনুপ সাদি।  তিনি বলেন, ময়মনসিংহ থেকে ‘অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা’ নামে একটি আন্দোলন শুরু করি। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গলের পর এবার খুলনায় এ আয়োজন করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে তা সারা দেশে অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিবৃতি পাঠ করেন কবি হাসান জামিল। আলোচনায় অংশ নেন কবি ও গীতিকার হাসান ফকরী, কবি এহসান হাবীব এবং কবি শামীম আকতার লিটু। আসরে উপস্থাপনা করেন ছাত্রনেতা রুহুল আমিন এবং রোদ্দুরের সম্পাদক, কবি ও লেখক দোলন প্রভা

পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অর্ধশতাধিক কবি দেশের বর্তমান অবস্থা, মানবতা, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন। বয়সের বাধাকে ডিঙিয়ে ঢাকা থেকে এসে কবিতা আবৃত্তি করেছেন কবি গীতিকার হাসান ফকরী, রংপুর থেকে কবি চিনু কবীর, নারায়ণগঞ্জ থেকে রঘু অভিজিত রায়, রইস মুকুল, জিয়াবুল ইবন, নাসিমা বেগম ও রাজলক্ষী।

ময়মনসিংহ থেকে এসেছিলেন কবি আশিক আকবর, হাসান জামিল, কবি মাহমুদুল শান্ত, কবি সৌরভ মাহমুদ এবং কবি তানিয়া সুলতানা। এছাড়াও এসেছিলেন বরিশাল থেকে কবি মিজান মজুমদার, মাগুরা থেকে কবি শিকদার ওয়ালিউজ্জামান, যশোর থেকে কবি ইবাইস আমান ও চিন্তক বেনজিন খান, ঠাকুরগাও থেকে এসেছিলেন কবি ও প্রকাশক অজয় কুমার রায়।

ঢাকা থেকে এসেছিলেন কবি অনুপ সাদি। তিনি আবৃত্তি করেন কবিতা ‘আলোকের দিন শুরু হলে মানুষের গল্প লেখা হবে’। এছাড়াও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি দোলন প্রভা, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ, কবি মিলু হাসান এবং কবি সাঈদ বিলাস। ভারতের বিপ্লবী কবি ভারভারা রাওয়ের কবিতা আবৃত্তি করেন ছাত্রনেতা আতিফ অনিক।

খুলনায় উপস্থিতির একাংশ

খুলনার যেসব কবি কবিতা আবৃত্তি করেন তারা হচ্ছেন কবি ও লেখক শামীম আক্তার লিটু, কবি রোমেল রহমান, অনিন্দ্য অবনী, সাইমন স্বপন, রতন মন্ডল, সাজ্জাদ হায়দার নান্নু, জব্বার মুহাম্মদ, মিহির কান্তি মন্ডল, আঁখি সিদ্দিকা, নিয়াজ মোর্শেদ দোলন, শাহানাজ মৌ, সুবর্ণা রায়, সুপ্রসাদ গোস্বামী এবং প্রশান্ত।

প্রতিবাদমুখর কবিতা কর্মীদের দহন জর্জরিত শব্দমালা ধারন করে এই অনুষ্ঠান সকল দর্শক শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রাখে।  অনুষ্ঠানে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী ধারাবাহিক সংগ্রাম পরিচালনা করবার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়। বাক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকারসহ সকল অধিকার যখন রুদ্ধ, সকল অধিকার যখন বিপন্ন, সকল অধিকার যখন বিস্মৃতির অতলে ডুবিয়ে মারার চূড়ান্ত ব্যবস্থা পোক্ত করা হয়েছে তখন প্রতিবাদমুখর এক এক জন কবি হ্যামলক হাতে হাসি দেবার সাহস দেখিয়েছেন তাদের এই কবিতা পাঠের আসরে।

Leave a Reply

Top