ভূমিকা: কুতি কালাই বা কুলঠি কালাই বা কুরতি ডাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Macrotyloma uniflorum) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ বীরুৎ । এই প্রজাতিটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জন্মায়।
কুতি কালাই-এর বর্ণনা :
এই কালাই দেখতে সরু, প্রায় খাড়া, বর্ষজীবী বীরুৎ আকৃতির, পালকাবৃত অনুসর্পী কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা যুক্ত। পত্র ত্রিফলক, পত্রফলক কোমল দীর্ঘ রোমযুক্ত, অখণ্ড, ঝিল্লিময়, প্রশস্তভাবে ডিম্বাকার, সূক্ষ্মাগ্র, পালকাবৃত, উপপত্র ডিম্বাকার-বল্লমাকার, উপপত্রিকা অতি ক্ষুদ্র। পুষ্প ১ থেকে ৫ টি করে একত্রে পত্র অক্ষে থাকে, মঞ্জুরীপত্র বল্লমাকার, প্রতিটি পুষ্পবৃত্তিকার পাদদেশে ১টি করে এবং প্রতিটি পুষ্পের গোড়ায় ২টি পার্শ্বীয়ভাবে থাকে। বৃতি রোমশ, দন্তক বল্লমাকার-দীর্ঘ রোমাকৃতি। দলমণ্ডল হালকা হলুদ, ধ্বজকীয় পাপড়ি ডিম্বাকার-খাতাগ্র, পক্ষ অপেক্ষা দীর্ঘতর, দৃঢ়ভাবে বাঁকা, তরীদল সরু, স্থূলাগ্র, ধ্বজকীয় পাপড়ি অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর। পুংকেশর দ্বিগুচ্ছীয়, পরাগধানী সমরূপ, পাদলগ্ন। গর্ভদণ্ড সূত্রাকার, স্থায়ী, মসৃণ, গর্ভমুণ্ড প্রান্তীয়। ফল পড, রেখাকার, বাঁকা, বীকযুক্ত, বিদারী, ৫-৭ বীজ বিশিষ্ট। বীজ ক্ষুদ্র, হীরকাকার, চ্যাপ্টা, বাদামি, কালো অথবা বহু বর্ণে চিত্রবিচিত্রিত। ক্রোমোসোম সংখ্যা : ২০ = ২০।
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: এটা আবাদী ফসল। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল নভেম্বর থেকে মার্চ। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা।
বিস্তৃতি :
ভারতে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। তাছাড়া মায়ানমার, শ্রীলংকা, আফ্রিকা ও আমেরিকাতে বিস্তৃত। বাংলাদেশে ইহা উত্তরাঞ্চলে চাষ করা হয়।
ব্যবহার:
দরিদ্র জনগোষ্ঠী ইহা ডাল হিসেবে ব্যবহার করে, কাঁচা অথবা ভেজে উভয় অবস্থায় খাওয়া হয়। কাণ্ড, পাতা এবং তুষ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবুজ সারের জন্যও ইহা জন্মানো হয়। এর বীজ তিক্ত, অতিশয় কটু, তপ্ত, অন্ত্রের সংকোচক ও কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ইহা সর্দি কাশি, হাঁপানি রোগের চিকিৎসায় ফলপ্রদ। এর ক্বাথ লিউকোরিয়া ও ঋতুস্রাব সংক্রান্ত রোগেরচিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৮মখণ্ডে (আগস্ট ২০১০) কুতি কালাই প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে কুতি কালাই সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।
আরো পড়ুন
- কুড় এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গুল্ম
- কুতি কালাই বর্ষজীবী বিরুত ডাল জাতীয় শস্য
- বিশল্যকরণী লতা বর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ
- মেথি দানা ও শাকের নানাবিধ গুণাগুণ
- পাথরকুচি বহুবর্ষজীবী ভেষজ গুণসম্পন্ন বিরুৎ
- মানকচু খাওয়ার নানাবিধি উপকারিতা আছে
- কোদো ধান বর্ষজীবী বিরুৎ
- সাদা চিতা বা সফেদ চিত্রক-এর নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ
- জোয়ান বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- পিছন্দি গুল্ম-এর ভেষজ গুণাগুণ
- ঝুমকা লতা-এর ভেষজ গুণাগুণ
- মাষকালই ডাল দিয়ে তৈরি নানা রেসিপি
- পিছন্দি পূর্ব এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গুল্ম
- সাদা কলমির নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ
- সাদা কলমি এশিয়ায় জন্মানো বিরুৎ
- একাঙ্গী বিরুতের ঔষধি ব্যবহার
- বন পুদিনা বহুবর্ষজীবী বীরুৎ
- টিকি ওকরা এশিয়ার বর্ষজীবী বিরুৎ
- নাগেশ্বর পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- জিট্টি পাহাড়ে জন্মানো উপকারী গুল্ম
- টিখুর বা অ্যারারুট বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- হলুদ লেজী হাঁস ফুল বাংলাদেশে জন্মানো বর্ষজীবি বীরুৎ
- কুমারি বুড়া দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো উপকারি বৃক্ষ
- রেউচিনি দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো উদ্ভিদ
- সিন্দুরি গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রে জন্মে
- নোয়া মরিচা পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো গুল্ম
- দেশি সির্খী দক্ষিণ এশিয়ার গুল্ম
- শাল গাছ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ছোট বান্দা দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গুল্ম
- ঢেঁড়সের পুষ্টিমান-এর বিবরণ
তথ্যসূত্র:
১. এ টি এম নাদেরুজ্জামান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৮ম, পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Sanjay Acharya
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।